গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) কাজী আব্দুল কাদের। তিনি ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বৈষম্য, অনিয়ম, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির সাথে প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও প্রেসিডেন্ট জেঃ ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত বাঙালি জাতির ওপর গুলিবর্ষণের পর সাড়ে সাত কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়। একই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা শোনা যায়। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে তিনি ভারতে যান। যশোরের কালিগঞ্জ, বারো বাজার, বাগদা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে বনগাঁ সীমান্ত সংলগ্ন শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। পরে বশিরহাট ক্যাম্পে বৃহত্তর খুলনা মুজিব বাহিনীর প্রধান শেখ কামরুজ্জামান টুকুর সাথে দেখা করে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ভারতের উত্তর প্রদেশের মিলিটারি একাডেমি দেরাদুনের টাণ্ডুয়ায় প্রশিক্ষণ নেন। আট সপ্তাহ প্রশিক্ষণ শেষে মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক প্রধান তোফায়েল আহমেদের নির্দেশনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে এলাকার যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেন।
ক্যান্টনমেন্ট থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে দেশে প্রবেশ করে পাইকগাছা থানার পাতড়াবুনিয়া বিএলএফ ক্যাম্পে যোগ দেন। পাইকগাছা থানার কপিলমুনি রাজাকার ক্যাম্প দখলের যুদ্ধ তার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ঢাকা স্টেডিয়ামে অস্ত্র জমা দিয়ে প্রথমে রক্ষীবাহিনী পরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি অবসর জীবন-যাপন করছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অবিস্মরণীয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

